ফতুল্লায় ১,৫১০ পিস ইয়াবাসহ ২ শীর্ষ মাদক সম্রাট গ্রেফতার

দৈনিক তালাশ ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর মাদক ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ ভোর আনুমানিক ০৬:৪৫ ঘটিকায় ফতুল্লার মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকার এক বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১,৫১০ (এক হাজার পাঁচশত দশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়:
​গ্রেফতারকৃতরা হলো:
১. মোঃ মাসুদ ওরফে হোটেল মাসুদ (৪০),
পিতা: মৃত মুসলিম মিয়া, মাতা: মৃত নুরজাহান বেগম, সাং: পশ্চিম মাসদাইর, বারৈইভোগ (খানকার মোড়), থানা: ফতুল্লা, জেলা: নারায়ণগঞ্জ।

২. মোঃ রাকিবুল ইসলাম অপু (২৫),
পিতা: মোঃ মামুন হোসেন, মাতা: রাবেয়া বেগম, সাং: শিবু মার্কেট, ব্যাংক-এর মোড় (সোনা মিয়ার বাড়ি),
থানা: ফতুল্লা, জেলা: নারায়ণগঞ্জ।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর বিশেষ দিকনির্দেশনায় এবং ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ মাহবুব আলমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এই সাঁড়াশি অভিযান।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই (নিঃ) নন্দন চন্দ্র সরকার, এসআই (নিঃ) শামীম হোসাইন, এসআই (নিঃ) রফিক (পিপিএম) এবং সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম এই সফল অভিযানটি সম্পন্ন করে।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মাসদাইর বাড়ৈভোগ খানকার মোড়স্থ আসামি মোঃ মাসুদ ওরফে হোটেল মাসুদের বসতবাড়ির নিচতলার রুমে মাদকের এক বড় চালান বেচাকেনা ও সরবরাহের উদ্দেশ্যে জমা করা হয়েছে।

সংবাদের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত পুলিশ দল সেখানে হানা দেয় এবং ঘরটি ঘিরে ফেলে।
পরবর্তীতে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ১,৫১০ পিস ইয়াবাসহ মাসুদ ও অপুকে আটক করা হয়।

​পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও পিসিপিআর (PCPR) যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত মোঃ মাসুদ ওরফে হোটেল মাসুদ এবং রাকিবুল ইসলাম অপু চিহ্নিত ও পেশাদার মাদক ব্যাবসায়ী।

তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুসংগঠিতভাবে যুবসমাজ ধ্বংসকারী ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

​কল লিস্ট ট্রেকিং, রিমান্ড ও আশ্রয়দাতাদের গ্রেফতারের দাবী:

​এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী গ্রেফতারকৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলার জোর দাবী জানিয়েছেন।

জনদাবী উঠেছে-কেবল এই চুনোপুঁটি বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করলেই মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে না।

এরা কার মাধ্যমে এত বড় মাদকের চালান আনত, এদের পেছনে মূল অর্থের যোগানদাতা (ফাইন্যান্সার) কে এবং রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী কারা এদের ছাতা হয়ে মাথার ওপর আশ্রয়-প্রশ্রয় (শেল্টার) দিচ্ছে, তা উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি।

​এলাকাবাসীর দাবী, ধৃত আসামিদের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট চেক (Call List Check) ও কল ট্র্যাকিং (Call Tracking) করে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা সমস্ত মদদদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে।

প্রয়োজনে আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলতে হবে এবং এর সাথে জড়িত সকল সহযোগী, আশ্রয়দাতা ও অর্থদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

​ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, সমাজ থেকে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

নারায়ণগঞ্জ জেলাকে মাদকমুক্ত করতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এই বিশেষ ও অল-আউট অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নেপথ্যের গডফাদার ও আশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তারসহ কল লিস্ট ট্র্যাকিং করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের দাবী সচেতন মহলের।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *