দৈনিক তালাশ ডটকমঃ সৈয়দ মহসীন হাবীব সবুজ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: পরিবারের বন্ধন, ভাইয়ের প্রতি স্নেহ-মমতা আর দায়িত্ববোধ যে কতটা গভীর হতে পারে, তারই এক সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাই সাংবাদিক সবুজ মিয়াঁর একাকিত্বের জীবনে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার পরশ বুলিয়ে দিতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আয়োজন করেন বিশেষ দাওয়াতের।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংড়া গ্রামে নিজ বাসায় ভাই সাংবাদিক সবুজ মিয়াঁকে পোলাও-মাংসের দাওয়াত দিয়ে আপ্যায়ন করান সৈয়দ শফিকুল ইসলাম। সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল ভাইয়ের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা।
জানা যায়, সাংবাদিক সবুজ মিয়াঁ বর্তমানে অনেকটা একাকিত্বের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাঁর স্ত্রী নেই। একমাত্র কন্যা বসবাস করছেন
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার স্বামীর সংসারে । ফলে নিজের দৈনন্দিন রান্নাবান্নাসহ সংসারের অধিকাংশ কাজ তাঁকেই নিজ হাতে সামলাতে হয়।
ভাইয়ের এই একাকিত্বের কথা বিবেচনা করে মেজ ভাই সৈয়দ শফিকুল ইসলাম নিয়মিত তাঁর পাশে দাঁড়ান। প্রায় প্রতি সপ্তাহে একদিন বাড়িতে ভালো কোনো খাবারের আয়োজন হলেই ভাইকে দাওয়াত দেন। কখনো পোলাও-মাংস, আবার কখনো পছন্দের অন্য কোনো খাবারের আয়োজন করে তাঁকে রাতের খাবারে আপ্যায়িত করেন।
এ যেন কেবল খাবারের দাওয়াত নয়, বরং নিঃসঙ্গ জীবনে আপনজনের সান্নিধ্য, মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা পেরিয়েও ভাইয়ের প্রতি এমন নিয়মিত খোঁজখবর, যত্ন ও আন্তরিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
সৈয়দ শফিকুল ইসলামের এই মানবিক আচরণে ফুটে উঠেছে একজন দায়িত্বশীল বড় ভাইয়ের স্নেহ, মমতা, উদারতা ও সহমর্মিতার পরিচয়। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবনের দায়িত্ব পালন শেষে পারিবারিক জীবনে ভাইয়ের প্রতি তাঁর এই যত্নশীল ভূমিকা ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ভালোবাসার প্রকৃত সৌন্দর্য যে দামি উপহার কিংবা বড় কোনো আয়োজনে নয়, বরং আপনজনের পাশে থাকা, তাঁর একাকিত্ব বোঝা এবং সামান্য আন্তরিকতায় মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই নিহিত—সৈয়দ শফিকুল ইসলামের এই উদ্যোগ যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই প্রতিফলন।