একাধিক মামলার প্রধান আসামি মাদক সম্রাট রাজ্জাক ও তর সহযোগিতা করেছে র‌্যাব-১১

দৈনিক তালাশ ডটকমঃনারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পরিচিত ‘রাজ্জাক বাহিনী’র প্রধান আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগী সোহেলকে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করেছে র‌্যাব।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পরে রাতেই দুজনকে ফতুল্লা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ চাষাঢ়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি আসামি। একই ঘটনায় তার সহযোগী সোহেলকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইসদাইরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ
ইসদাইর এলাকায় রাজ্জাককে ঘিরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে কয়েক বছর ধরেই ‘রাজ্জাক বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপের তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। ২০২২ সালে ইসদাইরে শামীম নামে এক যুবক হত্যার ঘটনাতেও সংবাদমাধ্যমে রাজ্জাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রকাশিত হয়।
চলতি আগস্টেও ইসদাইর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৫ আগস্টের ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা আহত হন এবং রাজ্জাকের ছেলে জসিমসহ দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জসিমের কাছ থেকে একটি গুলিভর্তি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ১৬ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ইসদাইরে রাজ্জাককে ঘিরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের ওপর হামলার মামলাতেও আসামি
ফতুল্লা থানার এসআই শামীম হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি হত্যা মামলাও রয়েছে। সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তার নাম রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে ইসদাইর ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই কথিত ‘রাজ্জাক বাহিনী’র প্রধানকে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আটকের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে বিচারাধীন বিষয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাগুলোতে তদন্তের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহরের আলোচিত ক্রাইমজোন ইসদাইরে অস্ত্র ও গুলি সহ রাজ্জাক বাহিনীর ২ সদস্য গ্রেফতার আহত ৩ পুলিশ সদস্য পলাতক রাজ্জাকসহ বেশ কয়েকজ নসন্ত্রাসী।

৫৩ রাউন্ড গুলি সহ রাজ্জাক ও তার ছেলে ওয়াসিম কে গ্রেফতার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ, গুম, খুন অপহরণ মাদক, ধর্ষণ সহ একাধিক মামলার আসামি রাজ্জাক জসিম ওয়াসিম সহ তার অনুসারী দের নামে, ফতুল্লা থানা পুলিশ ৫৩ রাউন্ড গুলি সহ মামলা দিয়ে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করে।
আদালত থেকে যামিন নিয়ে ফিরেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা।
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জসিম নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
পরে তাকে ও তার এক সহযোগী মোহনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর সোয়া ৩টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন তোলারাম কলেজ এলাকার আরবান স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- ফতুল্লা থানার ইসদাইর এলাকার রেজ্জাকের ছেলে জসিম (২৪) ও একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের নাম রায়হান মোল্লা (৫০) তিনি প্রয়াত মেছের আলীর ছেলে। বাবুর্চি রায়হান নগরীর জামতলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করতেন।
তিন ছেলেকে নিয়ে তল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। তার স্ত্রী আগেই মারা গেছেন।
এলাকার ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই জানত, এই বাহিনীকে স্পর্শ করা মানে বিপদ ডেকে আনা। অথচ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থা নিয়মিত এই এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও কখনোই দেখা যায়নি সাঁড়াশি অভিযান কিংবা কঠোর নজরদারি।
অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিয়মিত মাসোয়ারা গ্রহণ করায় রাজ্জাক গ্রুপের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সাহসই দেখাতে পারেনি কেউ।
ফলে অপরাধের মাত্রা অল্পদিনে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায়। প্রকাশ্যে হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রবাজি ছিল তাদের নিত্যকার কার্যকলাপ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজ্জাক ও তার অনুসারীদের কাছে যেন পুরো পাড়া জিম্মি হয়ে ছিল।
৯৯৯ কলেই ভাঙল নীরবতা: ফতুল্লা থানার অভিযানে দেশীয় পিস্তল উদ্ধার
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একটি কল আসে—ইসদাইর চাষাড়া রেললাইন এলাকার ফরিদা ক্লিনিকের পেছনে নাসিরের বাড়ির ‘৫২ ঘর’ ভবনের একটি কক্ষে সাগর নামে এক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত কয়েকজন আটকে রেখেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অপরাধচক্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই এলাকায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ যে পুলিশের কাছে যেতে সাহস পেত না, সেই বাস্তবতাও স্পষ্ট।
তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফতুল্লা থানার ঈগল–২ টিম রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হরমুজ মুন্সীর ভাড়াকৃত ঘরে তল্লাশি চালায়।
সেখানে পাওয়া যায় ম্যাগাজিনযুক্ত একটি দেশীয় পিস্তল—যার গায়ে স্পষ্ট ঘষামাজার চিহ্ন। শুধু আটকে রাখা নয়, অস্ত্র মজুতের ঘটনা প্রমাণ করে এই চক্র কতটা সংগঠিত এবং বিপজ্জনক।
এর আগের রাতেই রাজ্জাক বাহিনীর অনুসারীদের তাণ্ডব
স্থানীয়দের তথ্য আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। আগের রাতেই রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাহফুজুর রহমান শুভ ও তার ১০–১২ সাঙ্গপাঙ্গ হানিফ নামের এক যুবকের কাছে “মোবাইল আছে” এমন অভিযোগ তুলে হরমুজ মুন্সীর ঘরে হামলা চালায়।
তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, বাসিন্দাদের মারধর এবং পরে সবাইকে বের করে দিয়ে ঘরটি তালাবদ্ধ করে রাখে। অর্থাৎ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখলে না দেখার মতো অবস্থায় পুরো এলাকা যেন গ্যাংয়ের দখলে ছিল।
দ্বিতীয় অভিযানে উন্মোচিত রাজ্জাকের অস্ত্র ও মাদক ভান্ডার
৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিটে ‘ক’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত দ্বিতীয় অভিযানে রাজ্জাকের দখলে থাকা ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, সুইচ গিয়ার ছুরি, চারটি স্টিলের ছোরা, একটি দা এবং এক কেজি গাঁজা। যে পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হয়েছে, তা স্পষ্ট করে যে রাজ্জাক ও তার গ্রুপ সাধারণ অপরাধী নয়—এরা দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোপন শক্তি গড়ে তুলেছিল।
রাজ্জাকের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণসহ একাধিক মামলা আগে থেকেই রয়েছে, তবুও তিনি এলাকায় ছিলেন রাজত্বকারী মাফিয়ার মতো স্বাধীনভাবে।
রাজধানীতেও রাজ্জাক বাহিনীর বিস্তার: পুত্র ওয়াসিম গ্রেপ্তার অস্ত্রসহ গাড়ি নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে
আরো উদ্বেগজনক তথ্য হলো—রাজ্জাক শুধু নারায়ণগঞ্জেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার ছেলে ওয়াসিম (২২) রাজধানীর মুগদা এলাকায় অস্ত্রসহ গাড়ি নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরিবারভিত্তিক এই অপরাধ সাম্রাজ্য যে শুধু স্থানীয় নয় বরং ঢাকাসহ বৃহত্তর এলাকায় বিস্তার ঘটিয়েছে, সেটি এবার স্পষ্ট।
কেন এতদিন অভিযান হয়নি ? দায় কার ?
এত অস্ত্র, এত মামলা, এত অভিযোগ—তারপরও রাজ্জাক বাহিনীকে বছরের পর বছর স্পর্শ না করার প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে বড়। এলাকাবাসী মনে করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য নিয়মিত মাসোয়ারা নেওয়ায় কেউই চক্রটিকে ‘টাচ’ করতে আগ্রহী ছিল না। এজন্যই সাধারণ মানুষকে বারবার ৯৯৯-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
এই অবস্থা শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুরবস্থা সুযোগ নেয়—একটি আইন অমান্যকারী গোষ্ঠীর কাছে রাষ্ট্রের পরাজয়ের শামিল।
৯৯৯-এর একটি কল পুরো চিত্রটাই বদলে দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—যে বাহিনী বছরের পর বছর অস্ত্র, মাদক, অপহরণ, ডাকাতি এবং হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের দমন করতে কি একটি ফোন কলের অপেক্ষায় থাকার কথা ছিল ?
রাজ্জাক বাহিনীর বিরুদ্ধে এই অভিযান একদিকে যেমন ইতিবাচক, অন্যদিকে তেমনি তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা, শৈথিল্য ও সম্ভাব্য দুর্নীতি। রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত এই পরিবারভিত্তিক অপরাধ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে এবার যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, নারায়ণগঞ্জের নিরাপত্তা ফিরে আসবে কীভাবে—এ প্রশ্ন এখন জনমনে।
এর আগেও রেলওয়ে স্টেশনের মাদক সম্রাট রাজ্জাক তার দুই ছেলে জশিম ও ওয়াসিম বেপরোয়া ভাবে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর
দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ বিভিন্ন কৌশলে নিউ চাষাড়া বাস্তহারা বস্তিত ও রেলস্টেশন এলাকায় মুফতি মান আতঙ্কের, নাম জসিম ও ওয়াসিম মাদক সম্রাট রাজ্জাক ২০২৫ সালে, নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তারই দুই ছেলে জশিম ও ওয়াসিম নামে বেপরোয়া।
শামীম হত্যা মামলায় ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার হয়েছিল সন্ত্রাসী রাজ্জাকের ছোট ছেলে ওয়াসিম ও পেদা আলী, বাকি আসামিরা দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়াতো তার কিছুদিন পরে বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে আত্মসমর্পণ করে সন্ত্রাসী রাজ্জাক।
শামীম হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার হল বাকি আসামিদের মধ্যে, জসিমসহ বেশ কয়েক জন আসামি কে গ্রেপ্তার করেতে পারেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট থেকে এসে বস্তির অসহায় মানুষদেরকে দেশি ও বিদেশে অস্ত্র দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার করছে এই সন্ত্রাসী রাজ্জাকের, জসিম – ওয়াসিম – শুভ সহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী।
ইতিমধ্যে- দুই পুলিশ কর্মকর্তা কে মারধর তাদের থাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা আপরাধ করেও কি ভাবে বহাল রয়েছে এই সন্ত্রাসীরা।
চাষাড়া রেলস্টেশন ও নিউ চাষাড়া বস্তি ও ইসদাইর এলাকায় টোকাই রাজ্জাক মাদকে’র ওপেন স্পট চালিয়ে কোটি টাকার বাড়ির মালিক সাথে একাধিক দামি দামি মোটরসাইকেল ও নোয়া গাড়ি এবল পিস্তল দেখিয়ে রাজ্জাক মাদকের ওপেন স্পট খুলে প্রতিনিয়ত বিক্রি করছে লক্ষ লক্ষ টাকার, হিরোইন- গাঁজা- ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক সিন্ডিকেট তৈরি করে চালিয়ে যাচ্ছে একের পর এক অপরাধ, এই সন্ত্রাস সিন্ডিকেট এর প্রধান মাদক সম্রাট রাজ্জাকের নিয়ন্ত্রণে।
এই মাদক ব্যবসা কে কেন্দ্র করে- গত ২০২২ সালের ৫ই ডিসেম্বর কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে, মামুন নামের এক যুবক কে হত্যা করা হয়।
ধরাছোঁয়ার বাইরে মাদক ব্যবসায়ী- রাজ্জাক- ফরিদ- পেদাহ আলী-জশিম-ওয়াসিম-শামীম হত্যা মামলায় পলাতক আসামি রায়হান-আলম- সহ কয়েজ সন্ত্রাসী। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো, বাবুরচি সেলিম -বিপ্লব এর মা -বিপ্লব- মাদকের ডিলার মিলন ও আয়েশার মত, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা জরিত রয়েছে।
৫ ই আগস্টে পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা এবং কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের সেলটারে নারায়ণগঞ্জ এর বিভিন্ন এলাকায় মাদক এর ভয়ানক পরিস্থিতি সেই সুযুকে বেপরোয়া মাদক সেবি রা নেশার টাকা জোগাতে করেছে -চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি-ও হত্যাকান্ড সহ বিভিন্ন অপরাধ।
৫ই আগস্টে ছাত্র-জনতাকে প্রতিহত করতে – আওয়ামী লীগের দোসর জাকিরুল আলম হেলাল এর সাথে মাঠে ছিল- রাজ্জাক ও তার সন্ত্রাসীরা, চাষাড়া রেলস্টেশন-নিউ চাষাড়া বস্তি ইসদাইর বাজার পর্যন্ত একাধিক মাদক স্পট রেললাইনের সরকারি জায়েগা দখল করে ক্লাব ও দাফন কমিটির নামে চলছে মাদক বিক্রি- হিরোইন- গাঁজা- ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেনসিডিল এর মত মরণ নেশা।
এক সময় এ-ই মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করতো মাদক সম্রাজ্ঞী শীমা ও মিন্টু সেলম্যান আয়েশা ও তার ছেলে মিলন- শেল্টারদাতা ছিল রাজ্জাক – সহ জড়িত রয়েছে বস্তির মুখোশধারী কিছু মুরুব্বিরা।
চাষাড়া রেলস্টেশনে চায়ের দোকান জামাল একটি গাঁজার স্পট চালাতো ঐ মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করতো-নিহত মানিক ও নিহত শামীম- ঠিক একই জায়গায় রাজ্জাকের হিরোইন ও গাজার স্পট ছিলো এক পর্যায় টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে জামাল ও শামীম এর সাথে তর্ক বিতর্ক হয় রাজ্জাকের ও পেদা আলীর সাথে।
এই ঘটনায় রাজ্জাক ও তার ছেলের ছবি প্রকাশিত হয় দৈনিক সংবাদ চর্চা পত্রিকায় নিউজ আশাকে কেন্দ্র করে জামাল কে বাড়ি থেকে ধরেনিয়ে আসে- রাজ্জাক- পেদা আলী- ফরিদ- আলম- রায়হান- সহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাস।
পড়ে জামালকে দিয়ে শামীমকে ফোন দিয়ে আসতে বলে হঠাৎ জামালের মা এসে চিৎকার চেঁচামেচি করে ওঠে, এরই মধ্যে শামীম চলে আসে রাজ্জাকের দোকানে হঠাৎ করে হিংস্র হয়ে ওঠে রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা শামীম এর সাথে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় শামীম নামে এক যুবক কে ঐ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ছিলো জামাল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ কে কেন্দ্র করে – হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।
২০০৩ সালে চাষাড়া রেলস্টেশনে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আয়েশার ছেলে মিলন ও সোহাগ গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় রুবেল নামের এক যুবক কে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং আহত গুরুতর আহত হয় সোহাগ সহ চারজন, এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
একই মাদক স্পোর্ট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে শামীম নামে এক যুবকে দিনের আলোতে ওপেন কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে রাজ্জাক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।
মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে, ৫ টি হত্যা কান্ড সহ দুই যুবক কে গুমের ঘটনা ঘটেছে, হত্যা মামলাথেকে জামিনে বের হয়ে, বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে- রাজ্জাক- কেশিয়ার- ছোট কালু – ফরিদ- পেদা আলী – টোকাই মিজান- জসিম – ওয়াসিম- ইয়াদ আলী- রাজু- সজীব- জুয়েল- সোলেমান মুন্সি- নবী ওরফে মোশারফ- পান্নু- নাবিল- আমিরের ছেলে জুয়েল- শুকুর – মানিক সহ কয়েক জন সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাজ্জাক তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করে প্রশাসন কে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক বাণিজ্য।
ইভন হত্যা মামলার আসামি পাগলা সাইফুলসহ ২ জন গ্রেফতার পলাতক বাবু সহ বাকিরা এখনো পলাতক রয়েছে।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে ইভন(৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।
রোববার রাত ৯ টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার অক্টো অফিস এলাকায় চেঙ্গিস খানের বাড়ীর সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
ইভন হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ও কিশোর গ্যাং প্রধান হিসেবে পরিচিত। তিনি ইসদাইর এলাকার এম.এ আজম বাবুর ছেলে।
প্রতিপক্ষ সাইফুল গ্রুপের হাতে ইভন নিহত হয় বলে জানা যায়।
বাড়িতে ফিরছিলো (ইভন) এমন সময় মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে ইভনকে নামিয়ে শফিকুল তার দুই ভাই পাগলা সাইফুল ও বাবু সহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী কোপাতে শুরু করে এ সময় পাসে থাকা এক জন বাধা দিতে গেলে নাছিম কে কুপিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) শহিদুল জানান, সাইফুল, বাবু ও তাদের অপর এক ভাই সহ বেশ কয়েক জন সন্ত্রাসী রাত নয়টার দিকে ইভনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত যখন করে, পরে ইভনের সহোযোগিরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহরের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করে। সেখানে ইভন মারা যায়।
মোবারক ও ভোগোল লাশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ, রাজ্জাক বাহিনীর কাছে রয়েছে অস্ত্র ভান্ডার।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *