প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা

দৈনিক তালাশ ডটকমঃ একসময়কার সাধারণ অবস্থা থেকে এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। সম্পদের পাহাড় গড়লেও যেন আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মন্ডল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে ও ‘শেল্টারে’ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন তিনি।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
শেল্টারে সম্পদের পাহাড়?
অনুসন্ধানে জানা যায়, শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত সিরাজ মন্ডল গত দেড় দশকে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ।
তেলের ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা এবং জমি দখলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এলাকায় কোনো বিচার-সালিশ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য—সবই চলত তার ইশারায়।
শামীম ওসমানের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের জমি দখল ও চাঁদাবাজির একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।
ছেলের গোডাউনে বিজিবি-ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান :
সিরাজ মন্ডলের সাম্রাজ্যের অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে সম্প্রতি তার ছেলের তেলের গোডাউনে অভিযানে। গত ১ এপ্রিল জেলা প্রশাসন ও বিজিবির একটি যৌথ দল সিদ্ধিরগঞ্জে তার ছেলে জাহিদের মালিকানাধীন গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৯ হাজার ১০০ লিটার ডিজেল জব্দ করে। এ সময় গোডাউনের ম্যানেজারকে ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই তেলের ব্যবসার আড়ালে মূলত অবৈধ মজুদ ও চোরাই তেলের সিন্ডিকেট পরিচালিত হতো।
মামলা থাকলেও প্রকাশ্যে সিরাজ?
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও হত্যার ঘটনায় সিরাজ মন্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রভাবশালী এই নেতা এখনো গ্রেপ্তার হননি।
এমনকি তাকে মাঝেমধ্যে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যায় বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জনসাধারণের দাবি?
সিদ্ধিরগঞ্জের সচেতন মহলের দাবি, শামীম ওসমানের দোসর হিসেবে পরিচিত এই নেতার অবৈধ সম্পদের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন এখনো গ্রেপ্তার হচ্ছেন না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *