দৈনিক তালাশ ডটকমঃনিজস্ব প্রতিবেদক:নারায়ণগঞ্জে এক প্রবাসীর অসহায় স্ত্রীকে মারধর, তাঁর শিশু সন্তানের পা ভেঙে দেওয়া, ঘরবাড়ি লুটপাট এবং পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ‘মানব পাচার’ মামলা দিয়ে হয়রানির তীব্র অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ও এক ভুয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই সুসংগঠিত অপরাধ চক্র গড়ে তোলার দাবি করা হয়েছে।
ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী সানজিদা সুলতানা আশা (২৯) অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার শান্তিধারা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বেপারীর কাছ থেকে তাঁর আত্মীয় ইব্রাহিম শেখ শাওন বিদেশে যাওয়ার খরচ তিন লক্ষ টাকা ঋণ নেন।
এই ঋণের জিম্মাদার ছিলেন বাচ্চু মিয়া ও মোঃ শরীফ হোসেন । তবে প্রবাসে যাওয়ার পর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ইব্রাহিমের মা রুমা আক্তার টাকা না দিয়ে নানা রকম তালবাহানা ও হুমকি-ধামকি শুরু করেন।
টাকা ফেরত চাওয়ার জের ধরে গত ২২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে রুমা আক্তার ভুক্তভোগী সানজিদা সুলতানাকে বেদম মারধর করেন।
এ সময় আকাশ (৩০) নামের এক যুবক সানজিদার পা ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাঁশ দিয়ে সজোরে আঘাত করতে গেলে, সানজিদার সামনে থাকা তাঁর শিশুপুত্রের ডান পায়ে সেই আঘাত লাগে। এতে শিশুটির পা মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়।
বর্বরতার এখানেই শেষ নয়, এরপর সানজিদাকে তাঁর স্বামীর বাড়ি থেকে এক কাপড়ে সন্তানসহ তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
সন্তানসহ অসহায় ও গৃহহীন হয়ে সানজিদা সুলতানা আশা ন্যায়বিচারের স্বার্থে গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে দুটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন: যার মামলা নং- ৭০৩/২০২৫ ও মামলা নং- ৮০০/২০২৫।
মামলা দায়েরের পর আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক পরিচয়ে সানজিদাকে নানা প্রকার ভয়ভীতি দেখায়।
মূল সত্য আড়াল করতে এবং পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে আসামিপক্ষ ঘটনার ৫ মাস পর সানজিদা, তাঁর প্রবাসী স্বামী ও তাঁর বৃদ্ধ পিতা জাহাঙ্গীর বেপারীকে হয়রানি করতে একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক, মানব পাচার মামলা দায়ের করে। অভিযোগ রয়েছে, মোঃ হোসেন হ্যাপি নামের এক ভুয়া সাংবাদিকসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি আসামিদের পক্ষে নেওয়ার জন্য জোরালো অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সর্বশেষ গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় সানজিদার অনুপস্থিতিতে তাঁর স্বামীর তালাবদ্ধ ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে জানা যায়, ঘর থেকে আনুমানিক ৭ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং খাট, ফ্রিজ, সোফাসহ আরও ৫ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র (সর্বমোট আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকার মালামাল) লুটপাট করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্বামী প্রবাসে থাকায় সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন সানজিদা সুলতানা আশা। তিনি বলেন, আমরা পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে অপরাধ করেছি। আজ আমার বাচ্চার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, ঘর লুট হয়েছে, আর আমাদের মুখ বন্ধ করতে আমাদেরকেই মানব পাচারকারী বানিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।