দৈনিক তালাশ ডটকমঃ ২৬-২৭ অর্থ বছরে জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মোট বরাদ্দের ২ শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, নাট্যকলা, চারু ও কারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষা বিষয় চালু করে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে শহরে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি প্রদীপ সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি সেলিম মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব জামাল হোসেন,সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়নগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, চারণের জেলা কমিটির সদস্য সেলিম আলাদীন, বেলাল হোসাইন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সংস্কৃতি কর্মী জহিরুল ইসলাম মিন্টু।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মাত্র ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের এক শতাংশেরও কম।
দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সংস্কৃতি খাতে অন্তত ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে তরুণদের একটি অংশ মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পাশাপাশি সমাজে সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির পেছনেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সংকট ভূমিকা রাখছে।
একটি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। তারা বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা করছে এবং নাচ-গান ও খেলাধুলার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই।
এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি, মিলনায়তন ও সাংস্কৃতিক মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।