বক্তাবলীতে স্বামীর বাড়ি থেকে লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও স্ত্রী থানায় অভিযোগ

দৈনিক তালাশ ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের অগোচরে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও পরনের জামাকাপড় নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাদিয়া (১৯) নামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, টাকা-স্বর্ণালংকার ফেরত চাইতে গেলে উল্টো হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শাশুড়ি জামিনা (৩৮) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের সামসুল আলমের মোড় এলাকার আলী মিয়ার মেয়ে জামিনার ছেলে অন্তুর (২১) সঙ্গে উত্তর নরসিংপুর বকুল তলা এলাকার আশরাফুলের মেয়ে নাদিয়ার ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বর্তমানে নাদিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বাবার বাড়ির স্বজনদের ইন্ধনে কারণে-অকারণে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে আসছিলেন নাদিয়া। তিনি কারও কোনো কথা শুনতেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে পরিবারের সবাই যখন ঘুমে ছিলেন, তখন সুযোগ বুঝে ঘর থেকে নগদ ১ লাখ টাকা, ১ ভরি ৬ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নিজের ব্যবহৃত সব জামাকাপড় নিয়ে বাবার উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়েন তিনি।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে শাশুড়ি জামিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নাদিয়ার বাবার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে খোয়া যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ তাঁকে স্বামীর সংসারে ফিরে আসার অনুরোধ করলে নাদিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন—তিনি আর ওই সংসারে ফিরবেন না বা সংসার করবেন না। একই সঙ্গে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের নানা রকম ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি ও একাধিক মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শাশুড়ি জামিনা বলেন, “কোনো উপায় না পেয়ে আমি ফতুল্লা থানায় গিয়ে নাদিয়া এবং তাঁর পরিবারের প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও আমার আমানত ফেরত চাই।”
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *