দৈনিক তালাশ ডটকমঃ সৈয়দ মহসীন হাবীব সবুজ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:কালিহাতী উপজেলা-তে এস এম মামুন অর রশিদ পিতা মোঃ আব্দুল হামিদ মিয়া, সাং সাতুটিয়া, কালিহাতী, টাঙ্গাইল জীবন নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা-র ঘাটাইল ইউনিট কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এস এম মামুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, মশিউর রহমান সোহেল (৩২), পিতা মজিবর রহমান, মাতা হাওয়া বেগম, সাং ঘড়িয়া, কালিহাতী, টাঙ্গাইল এবং আশরাফুল আলম সুমন (৩০), পিতা মৃত শামসুল আলম, সাং বড় বাশালিয়া, টাঙ্গাইল সদরসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-১৬ জন ব্যক্তি সম্প্রতি মব সৃষ্টির লক্ষ্যে তাকে খোঁজাখুঁজি করছে। তিনি জানান, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইলের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উক্ত ব্যক্তিরা তাকে খুঁজতে থাকে। বিষয়টি টের পেয়ে তার ভাই মোঃ হারুনুর রশিদ ফোন করে তাকে সতর্ক করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা থেকে সরে যেতে বলেন। পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি অন্যত্র চলে যান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সূত্রপাত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে। ওইদিন ব্যবসায়িক বিল উত্তোলনের জন্য তিনি রাজধানীর কাওরান বাজার-এ অবস্থিত আব্দুল মোনায়েম লিঃ কার্যালয়ে যান। সেখানে মোটা অংকের বিল প্রাপ্তির বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তাকে ডেকে ১২ তলা থেকে ১৩ তলার ছাদে নিয়ে যায়। এস এম আব্দুর রশিদের অভিযোগ, ছাদে নিয়ে গিয়ে তারা তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছাদে শুইয়ে গলার উপর চাপ সৃষ্টি করে প্রাণনাশের ভয় দেখায়। পরে তাকে দিয়ে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তিনি টাঙ্গাইল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান। মামলা করার পর থেকে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি নিজ বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলেও জানান। এমনকি তার শয্যাশায়ী বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং স্ত্রী-সন্তানদের সাথেও দেখা করতে পারছেন না বলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।