দৈনিক তালাশ ডটকমঃ সৈয়দ মহসীন হাবীব সবুজ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড- এই চেতনা ধারণ করে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী নির্বাচিত হলে কালিহাতীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণায় পুরো কালিহাতী উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে প্রতিক্রিয়ায় ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী বলেন, “আমি নিজে বহু কষ্ট করে গ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা সম্পন্ন করেছি। থাকা-খাওয়া, টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পক্ষেই সম্ভব হয় না। তাই নির্বাচিত হলে কালিহাতীর মাটিতেই একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করব, যাতে গ্রামের মেধাবীরা নিজ এলাকায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।”
তার এই প্রতিশ্রুতি ঘিরে কালিহাতী উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের হাট-বাজার, চা-দোকান, রাস্তাঘাট ও পাড়া-মহল্লায় চলছে সরব আলোচনা ও ইতিবাচক সমালোচনা। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই পাড়ায় মহল্লায় এ আলোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে দেখা গেছে নতুন আশার আলো।
কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের বিলবর্ণী গ্রামের একলাছ মণ্ডল বলেন,
“অনেক নেতা অনেক কথা বলছে দেখেছি। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীর কথায় বাস্তবতার ছোঁয়া আছে। আমাদের এলাকার মেধাবী ছেলেমেয়েরা যদি এখানেই পড়াশোনা করতে পারে, তাহলে এটা হবে এলাকার জন্য বড় আশীর্বাদ।”
ভবানীপুর এলাকার সচেতন নাগরিক আজিজুর রহমান তালুকদার বলেন,
“কালিহাতীতে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় হলে শুধু শিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী শিক্ষিত মানুষ, তার চিন্তাভাবনাও আধুনিক।”
নারান্দিয়া ইউনিয়নের তরুণ সমাজকর্মী মনির হোসেন বলেন,
“গ্রামগঞ্জের মেধাবীরা অর্থের অভাবে ঢাকায় গিয়ে পড়তে পারে না—এটা বাস্তব সমস্যা। লিয়াকত আলীর এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের জন্য সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
এলেঙ্গা পৌরসভার ব্যবসায়ী ফজল মোল্লা বলেন,
“আমরা বহু বছর ধরে শুনছি উন্নয়নের কথা। যদি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয় হয়, তাহলে এলেঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এবার আমরা কাজ দেখে বিশ্বাস করতে চাই।”
সব মিলিয়ে ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা কালিহাতীর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়—ভোটাররা কতটা আস্থা রাখেন এবং নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়।