দৈনিক তালাশ ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন রামারবাগ এলাকায় আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম ডালিমের বাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ, লুটপাট ও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার শামীম, পিয়াসা আক্তার, ভূমিদস্যু ও ১২টি প্রতারণা মামলার আসামী আলতাব এবং বাবুল ও ফকরুদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবীর স্ত্রী মাহমুদা ইসলাম নারগিস বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় এবং কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেয়ায় সন্ত্রাসীরা পূণরায় সক্রিয় হয়ে আইনজীবীর বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগী জানান, আমার অনুপস্থিতিতে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় অভিযুক্তরা।
এসময় আমার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয় হামলাকারীরা।
তারা আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
এছাড়া হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ ৪০ হাজার টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটে নেয়।
এসময় আমার স্ত্রী তাদের বাধা দিলে হামলাকারীরা তাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বা মামলা করলে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ভুক্তভোগী আইনজীবী বলেন, এ বিষয়ে আমার স্ত্রী বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বিষয়টিকে আমলে নেয়নি বা কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার ফলে পূণরায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে উক্ত সন্ত্রাসীরা দ্বিতীয় দফায় একই কায়দায় হামলা চালায়। এসময় ভাড়াটিয়াদের উপর আক্রমণ করা সহ বাড়ির সকল ভাড়াটিয়াদের ব্যবহৃত গ্যাসের চুলা খুলে নিয়ে যায়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার লুট করা সহ ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়।
অ্যাড. ডালিম বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আমি মুঠোফোনে আমার অভিযোগের তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সঞ্জীবকে জানালে তিনি আসবেন বলেও কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
অতঃপর তিনি জানান সার্কেল এসপি (ক’ অঞ্চল) এর সাথে যোগাযোগ করতে। আমি স্বশরীরে যোগাযোগ করলে তিনি এসআই সঞ্জীবকে বিষয়টি দেখতে বলেন। কিন্তু অদ্যাবধি সে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নি।
বর্তমানে আমি পরিবার সহ প্রাণ সংশয় ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কারণ, তারা যে কোনো সময় আবারও আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভূমিদস্যু ও ১২টি প্রতারণা মামলার আসামী আলতাব গং একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র।
তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ থাকলেও তারা বীরদর্পে এলাকায় জবরদখল, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
তাদের অত্যাচারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেও তাদের মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি ও মারধর করে থাকে। তারা এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।