কালিহাতীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ইনতিজার শিশু বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত

দৈনিক তালাশ ডটকমঃ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ মহসীন হাবীব সবুজ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইনতিজার শিশু বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। শনিবার (২৯ নভেম্বর) কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজের রাবেয়া সিরাজ একাডেমী ভবনের দোতলায় অনুষ্ঠিত এ বৃত্তি পরীক্ষায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক এবিএম আব্দুল হাই অত্যন্ত গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার সাথে প্রতিটি কক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যানুপাতে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেন। প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর পর ঠিক সকাল ১০টায় পরীক্ষাটি শুরু হয়।

এই পরীক্ষায় প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শুধুমাত্র খালি হাতি শাজাহান সিরাজ কলেজ কেন্দ্রে মোট ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ ওয়াজেদ আলী খান।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলার মোট ছয়টি কেন্দ্রে একই দিনে একই প্রশ্নের ভিত্তিতে ইনতিজার শিশু বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইল শহরে ১টি, দেলদুয়ার উপজেলায় লাউহাটিতে ১টি, বাসাইল উপজেলায় ময়থা-ঝনঝনিয়া ১টি ও কালিহাতী উপজেলায় তিনটি কেন্দ্রে এ শিশুবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়। কালিহাতী উপজেলায় তিনটি কেন্দ্র হল— কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজ, এলেঙ্গা ও সহদেপুর ইউনিয়নে ভোক্তা।

কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কেন্দ্রটি সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেন সাংবাদিক সৈয়দ মহসীন হাবিব সবুজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক দেবাশীষ ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর।

শুধু সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, মাদ্রাসাগুলোও পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। বাংড়া ইউনিয়নের ভর্তা হাসনা মোকসেদ নূরানীয়া হাফিজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ৬০ জন শিক্ষার্থী এ ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম মাওলানা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের মাদ্রাসায় মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

২০০৯ সাল থেকে অধ্যাপক এবিএম আব্দুল হাই অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা করছেন। প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে এবং পরীক্ষার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সনদ প্রদানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

পরীক্ষা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা এবিএম আব্দুল হাই বলেন,
“কোমলমতি শিশুদের পরীক্ষা-ভীতি দূর করা এবং তাদের প্রকৃত মেধা যাচাই করাই এই বৃত্তি পরীক্ষার মূল লক্ষ্য।”

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *