দৈনিক তালাশ ডটকমঃ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ মহসীন হাবীব সবুজঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের মহাসমাবেশে সৃষ্টি হয়েছিল অভূতপূর্ব জনসমুদ্রের।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে এলেঙ্গায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-০৪ (কালিহাতী) আসনে অনুষ্ঠিত এ বিশাল জনসমাবেশে উপস্থিতি ছিল চোখধাঁধানো, উৎসবমুখর ও জনআকাঙক্ষায় উচ্ছ্বসিত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শুকুর মাহমুদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ লুৎফর রহমান মতিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ান বিএনপি’র সভাপতি ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান, নারান্দিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহর আলী, টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বারের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোবারকসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন-পৌরসভার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দৃপ্ত নেতৃবৃন্দ।
মঞ্চে বিএনপির স্থানীয় সিনিয়র নেতা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাদের প্রাণবন্ত ও সক্রিয় উপস্থিতি দৃষ্টি কাড়ে।
দুপুরের পর থেকেই এলেঙ্গা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে পুলিশ বক্সের উত্তরে সরকারি সামছুল হক কলেজ রোডজুড়ে উপস্থিত মানুষের ঢল উচ্ছ্বাসের ঢেউ তোলে। পুরো এলাকা পরিণত হয় টইটম্বুর জনসমাবেশে।
রাস্তার দুই পাশে সারি সারি দোকানের সামনে, বহুতল ভবনের দোতলা–তিনতলা–ছাদে, অলিগলি ও আশপাশের প্রতিটি ফাঁকা স্থানে উপচে পড়া জনতার উপস্থিতি নজর কাড়ে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, তরুণ, ব্যবসায়ী, কৃষক— বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন এই ঐতিহাসিক সমাবেশে।
মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লুৎফর রহমান মতিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন—
“এই গণজোয়ারই প্রমাণ করে এলেঙ্গার মানুষ পরিবর্তন চায়। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে আরও সাহসী করে তোলে। সুযোগ পেলে কালিহাতী ও এলেঙ্গাকে ন্যায়, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের আলোয় আলোকিত করব। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমি আপনাদের সঙ্গে আছি— থাকব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই ব্যতিক্রমী ও বিশাল জনসভা লুৎফর রহমান মতিনের বর্ধিত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের শক্তিমত্তার এক উজ্জ্বল প্রমাণ। এতে এলাকায় বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি নতুন গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য পেয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায়—
“এলেঙ্গায় এমন বিশাল জনসভা বহুদিন দেখা যায়নি। মানুষ নিজেরাই এসেছে— স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা নিয়েই।”