দৈনিক তালাশ ডটকমঃ নাম আলপনা নিগাত আখি (৪০) চেহারায় আধুনিকতার ছাপ আর কথায় সুমিষ্ট মায়া। প্রথম দেখায় যে কেউ তাকে উচ্চবিত্ত মার্জিত নারী মনে করতে বাধ্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর প্রতারণার জাল। নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকলেও চলাফেরায় রাজকীয় আভিজাত্য। মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে বিত্তশালী পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলা এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল নেশা ও পেশা।
ফেসবুক থেকে বেডরুম: যেভাবে চলে প্রতারণা অনুসন্ধানে জানা গেছে, আখি তার ফেসবুক প্রোফাইলে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির আবেদনময়ী ছবি দিয়ে প্রথমে টার্গেট করা পুরুষদের আকৃষ্ট করেন। এরপর গড়ে তোলেন কথিত প্রেমের সম্পর্ক। সখ্যতা গভীর হলে তাদের সিদ্ধিরগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় ডেকে এনে কৌশলে ‘ট্র্যাপে’ ফেলেন। কখনো আপত্তিকর ছবি তুলে, আবার কখনো বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আদায় করেন মোটা অংকের টাকা। তার এই কৌশলী চালের শিকার হয়ে অনেক ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও যুবক আজ পথের ফকির।
সংসার ভাঙার কারিগর আখির ব্যক্তিগত জীবনের ইতিহাস আরও ভয়ংকর। সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নং ওয়ার্ডের জসিমের সাথে তার বৈবাহিক জীবন শুরু হলেও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ‘রনি সিটি’র মালিক রনির সাথে। স্বামী বিষয়টি জানতে পেরে তাকে তালাক দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। অন্যদিকে, আখির কুমন্ত্রণায় রনি তার দুই সন্তান ও প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় রনির কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এই বহুরূপী নারী।
প্রবাসীরাও রেহাই পাচ্ছে না আখির প্রতারণার হাত পৌঁছে গেছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও। গত ৯ বছর ধরে সিলেটের এক যুবকের সাথে সম্পর্ক রেখে বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বাদ পড়েনি সৌদি প্রবাসীরাও। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীদের পাঠানো দামি গিফট আর রেমিট্যান্সেই চলে তার বিলাসী জীবন।
নেপথ্যে প্রভাবশালী ও অসাধু চক্র অভিযোগ রয়েছে, এই অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে আখি ব্যবহার করেন রাজনৈতিক ঢাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে আড়াল করতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাদক সেবন এবং সঙ্গীদেরও মাদকাসক্ত করে ভিডিও ধারণ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ভুক্তভোগীরা ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায় না।
বিপন্ন সামাজিক মর্যাদা স্থানীয়দের মতে, আখির এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সামাজিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। তার কারণে অনেক পরিবারে নেমে এসেছে হাহাকার। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতি দ্রুত এই নারী প্রতারককে আইনের আওতায় আনা না হলে ধ্বংস হয়ে যাবে আরও অনেক সাজানো সংসার ও তরুণের ভবিষ্যৎ।