ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর পুরস্কার বিতরণী

দৈনিক তালাশ ডটকমঃ সৈয়দ মহসীন হাবীব সবুজ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:শুক্রবার (২৮আগস্ট)টাঙ্গাইল সদর কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহ-সভাপতি এবং জিয়া সাইবার ফোর্স, যুক্তরাষ্ট্রের সহ-সভাপতি নাসিম এম. খান (রুনু)।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুমুদিনী সরকারি কলেজ, টাঙ্গাইলের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. খলিলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন। প্রধান আলোচক ছিলেন ছায়ানীড়ের পরিচালক ও ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
এম.এ. লতিফ তালুকদার (DMLS-UK), প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সরাশাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সভাপতি, মানবাধিকার ইউনিটি, টাঙ্গাইল জেলা শাখা;
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল হাফিজ খান, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, কবি রোকেয়া বেগম, প্রজন্ম দলের টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক সোহেল আহমেদ যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সেলিম মিয়া,
এক্স ক্যাডেট একাডেমি, টাঙ্গাইল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও শিক্ষানুরাগী মো. আলমগীর হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ইনতিজারের সম্পাদক ও ইনতিজার শিশুবৃত্তির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক এবিএম আব্দুল হাই মিঞা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক ইনতিজারের বার্তা সম্পাদক ও কবি এনায়েত করিম। এ সময় দৈনিক ইনতিজারের সহ-সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কালিহাতী ইউনিটের সভাপতি সৈয়দ মহসীন হাবীব সবুজ এবং দৈনিক ইনতিজারের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল চিত্রমূল। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদুল বারী সোহান, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক ইনতিজার অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন।
অতিথিদের বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিম এম. খান (রুনু) বলেন, “শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের মেধা, মনন ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিশুদের আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইনতিজার শিশুবৃত্তির মতো উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।”
উদ্বোধকের বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. খলিলুর রহমান বলেন, “শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো সম্ভব।”
স্বাগত বক্তব্যে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুন হোসাইন বলেন, “শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আনন্দময় ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন মেধার মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।”
প্রধান আলোচক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, “২০০৯ সাল থেকে ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষা পরিচালিত হয়ে আসছে। শিশুদের পরীক্ষা ভীতি দূর করা এবং তাদের মেধা বিকাশে এ পরীক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”
বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল হাফিজ খান বলেন, “একজন শিশুর মেধা বিকাশে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজ—তিনটিরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যারা এবার সফল হতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “শিক্ষার উন্নয়নে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।”
এম.এ. লতিফ তালুকদার বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষা শিশুদের মধ্যে অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগবে।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এবিএম আব্দুল হাই মিঞা বলেন, “২০০৯ সালে শিশুদের পরীক্ষা ভীতি দূর করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষা শুরু করি। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ এ উদ্যোগ অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের আস্থা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।”
উল্লেখ্য, অধ্যাপক এবিএম আব্দুল হাই মিঞা ২০০৯ সাল থেকে ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষা চালু করেন। প্রতিবছর প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের মনের পরীক্ষা-ভীতি দূর করা এবং মেধা বিকাশের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী সদর, এলেঙ্গা, কালিহাতীর ভুক্তা, বাসাইলের ফুলকি ও দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
২০২৫ সালের ইনতিজার শিশুবৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৯৯টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *